রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বর্গা দেওয়া নিজ গরু ফেরত আনতে গিয়ে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মো. জালাল হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে কানাইয়া চাকমা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আর্য্যপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জালাল হোসেন বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে জালাল হোসেন তার একটি গাভী আর্য্যপুর এলাকার আয়রন চাকমার কাছে বর্গা দেন। পরে গাভীটি একটি বাছুর প্রসব করলে বাছুরটি রেখে গাভীটি মালিক জালাল হোসেনকে ফেরত দেওয়া হয়।
গাভীটি নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার পর রবিবার বিকেলে গরুটি রশি ছুটিয়ে বাছুরের টানে আবারও আয়রন চাকমার বাড়ির দিকে চলে যায়। সন্ধ্যার পর জালাল হোসেন গরুটি আনতে সেখানে যান। গরুটি নিয়ে ফেরার পথে আর্য্যপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে জেএসএসের ‘কালেক্টর’ পরিচয়ে কানাইয়া চাকমা তার কাছে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন জালাল হোসেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, মারধরের অভিযোগ
জালাল হোসেনের অভিযোগ, তিনি গরুটি বর্গা দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে কানাইয়া চাকমা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কানের ওপর কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর জালাল হোসেন ফোনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে নাক ও কানের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গরু ফেরত আনতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে জেএসএস এর স্থানীয় এক নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেএসএস বাঘাইছড়ির শান্তি সম্প্রতি রক্ষায় সব সময় ভুমিকা রেখে আসছে ভবিষ্যতেও রাখবে ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি ছোটখাটো ঘটনায় যেন সম্প্রতি নষ্ট না হয় আমরা চেষ্টা করবো এবং সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি।
সম্পাদক – মাহমুদুল হাসান সোহাগ | ঠিকানা – বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি | মোবাইল- ০১৬৯০-১৪৪৫৪