আরিফুল ইসলাম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম সীমান্তবর্তী গ্রাম জুপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের আগেই ওয়ারেনটি ত্রিপুরা (১৮) নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা দজেন ত্রিপুরার মেয়ে এবং সিয়ারি ত্রিপুরার স্ত্রী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রসবকালীন জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ননেল ত্রিপুরা।
ননেল ত্রিপুরা জানান, জুপুই পাড়া বাংলাদেশের শেষ সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রামগুলোর একটি। ওই গ্রাম থেকে সাজেকে আসার একমাত্র মাধ্যম পায়ে হাঁটা। পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী নারীর প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রাথমিক ভরসা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে বিজিবি ক্যাম্প থেকে যতটুকু সম্ভব বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতি নারীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সেখানে নেই।
স্থানীয়দের দাবি, সাজেকের বিস্তীর্ণ দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাজেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা, প্রসূতি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-জনবল থাকা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জুপুই পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জুপুই পাড়াসহ সাজেকের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সাজেকে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
সম্পাদক – মাহমুদুল হাসান সোহাগ | ঠিকানা – বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি | মোবাইল- ০১৬৯০-১৪৪৫৪