প্রতিশ্রুতি জিও ব্যাগের, বাস্তবে মাটিভর্তি বস্তা: ঝুঁকিতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়ক MHAMUDUL MHAMUDUL HASSAN প্রকাশিত: ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬ আরিফুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা প্রধান সড়কের ভয়াবহ ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে জরুরি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জিও ব্যাগের বদলে সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে দায়সারাভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকরা। টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে গত কয়েকদিনে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। কোথাও রাস্তার কিনারা ধসে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ করা হবে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে জিও ব্যাগের কোনো অস্তিত্বই নেই। সেখানে সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংস্কার কাজ শুধু লোক দেখানো। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটিভর্তি বস্তাগুলো সরে যাচ্ছে কিংবা ধুয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়ক আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। রবিবার (১৮ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, যেসব স্থানে সিমেন্টের বস্তা ফেলা হয়েছিল, দিনের বৃষ্টিতেই সেগুলোর অনেকাংশ ধসে গেছে। কিছু জায়গায় রাস্তার অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সৃষ্টি হচ্ছে চরম আতঙ্ক। স্থানীয় পরিবহন চালক জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই সড়কের একই অবস্থা হয়। তখন তড়িঘড়ি করে কিছু বস্তা ফেলে কাজ দেখানো হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।” স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের টেকসই সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বরং প্রতি বছর অস্থায়ী সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, “জিও ব্যাগের পরিবর্তে আপাতত সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তীতে কংক্রিটের মাধ্যমে স্থায়ী কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।” এর আগে সওজ জানিয়েছিল, ভবিষ্যতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে কেন কার্যকর ও টেকসই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক রক্ষায় পরিকল্পিত প্রকৌশল ব্যবস্থা, মানসম্মত প্রতিরোধক এবং টেকসই সংস্কার ছাড়া প্রতিবছরের ভাঙন ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না। ↓ ফটোকার্ড ডাউনলোড SHARES বাঘাইছড়ি উপজেলা বিষয়: