সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে ২৭ বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন, মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা জোন অধিনায়কের MHAMUDUL MHAMUDUL HASSAN প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের ডাব আদাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) ও বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন। নিহতের পরিবারের জন্য শিক্ষা উপকরণ, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, ঘর মেরামতের টিন, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাব আদাম পাড়ায় সুমতি চাকমার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পিএসসি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। এ সময় নিহত সুমতি চাকমার ৮ বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি চাকমার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের জন্য চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সুমতি চাকমার শাশুড়ির চিকিৎসার জন্যও নগদ অর্থ সহায়তা দেন জোন অধিনায়ক। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত সুমতি চাকমার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা, ঘর মেরামতের জন্য দুই বান টিন ও ৬ হাজার টাকা, দুর্ঘটনায় আহত করুনা চাকমার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা, খাদ্যসামগ্রী, কম্বল এবং প্রান্তি চাকমার জন্য পোশাক প্রদান করা হয়। মানবিক সহায়তা প্রদানকালে ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পিএসসি বলেন, “দুর্ঘটনা এমন একটি বিষয়, যা কখনো বলে-কয়ে আসে না। এই দুর্ঘটনাটি অন্য যেকোনো গাড়ির সঙ্গেও ঘটতে পারত। কে দায় নেবে বা নেবে না, সেদিকে বাড়াবাড়ি না করে আমি যেটা বুঝি—আমার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আমার একজন বোন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আমি আমার বোনের সন্তান প্রান্তি চাকমাকে নিজের সন্তান মনে করে তার দায়িত্ব নিতে চাই।” তিনি উপস্থিত স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন আমি প্রান্তি চাকমার একজন অভিভাবক, তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব।” জোন অধিনায়ক আরও বলেন, সুমতি চাকমার পরিবারের খোঁজখবর নিতে তিনি আজ তাদের বাড়িতে এসেছেন। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মারিশ্যা জোন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, “সুমতি চাকমার অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। যিনি মারা গেছেন, তিনি আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু আমরা তার রেখে যাওয়া সন্তান ও পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাব। বিশেষ করে তার সন্তান প্রান্তি চাকমার পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি থাকবে।” স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বন বিহারী চাকমা ২৭ বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সুমতি চাকমার স্বামী রিটন চাকমার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন জোন অধিনায়ক। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা দুর্ঘটনার দিন থেকে এখন পর্যন্ত মারিশ্যা জোন ও উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রান্তি চাকমার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সাজেক থানা থেকে প্রায় ৩–৪ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাঘাইহাট বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চম্পাতলী এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিজিবির একটি ৩ টন ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সুমতি চাকমা নিহত হন এবং করুনা চাকমা নামে আরও একজন আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই মারিশ্যা জোনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সোমবারের এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় মারিশ্যা জোনের মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা (এএমসি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিতন চাকমা, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফাল্গুন চক্রবর্ত্তী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বন বিহারী চাকমাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ↓ ফটোকার্ড ডাউনলোড SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: